শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ

গত à§« আগস্ট ছাত্র-জনতার যুগপৎ বিপ্লব ও অভ্যুত্থানে আওয়ামী-ফ্যাসিবাদী সরকারের লজ্জাজনক পতন হয়েছে। তাদেরকে ক্ষমতা হারাতে হবে একথা কখনো কল্পনাও করতে পারেনি বরং তাদের পতনের সকল ছিদ্রপথ বন্ধ করার জন্যই ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কথিত বিডিআর বিদ্রোহের নামে à§«à§­ জন চৌকস, মেধাবী ও দেশপ্রেমী সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা পাকাপোক্তকরণসহ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অরক্ষিত করে ফেলে।  

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাজপথে বিরোধীদলীয় কর্মসূচিতে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিলো। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে লাখ লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার ও কারাগারে অবরুদ্ধ করা হয়। আওয়ামী প্রতিহিংসা ও জুলুম-নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য হাজার হাজার নেতাকর্মী ভিটেমাটি ছাড়া হোন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য শত শত নেতাকর্মীকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। অনেকে গুম ও গুপ্তহত্যার শিকার হোন।

আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ততবারই গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও  মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তারা দেশের সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করেছিলো। ২০০৮ সালে তারা নতুন করে ক্ষমতায় এসেছে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত অবাধ গণতন্ত্র ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রক্ষাকবজ কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দেয়। ফলে পরবর্তী নির্বাচনগুলো তাদের নিজেদের অধীনে হওয়ায় কোন নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি।

হাসিনার জোর-জবরদস্তি ও অপশাসন-দুঃশসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো বারবার আন্দোলন গড়ে তুললেও দলীয় শক্তি ও রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সেসব আন্দোলন নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হয়। বিরোধীদলের জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতাদের কথিত ক্রসফায়ার নাম দিয়ে বিচারবহিভর্ূূত হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন গড়ে উঠলেই আওয়ামী নেত্রী সেসব আন্দোলনকে যেকোন মূল্যে দমন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিতেন। সরকারপ্রধানের এমন আস্কারা পেয়েই দলবাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপকভিত্তিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্মম দলন-পীড়ন চালাতেন। এমনকি তারা হত্যা করতেও কসুর করতেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী-বাকশালীদের শেষ রক্ষা হয়নি বরং দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই স্বেরাচারী অপশক্তির পতন হয়েছে।

মূলত, জুলাই বিপ্লব কোন রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না বরং সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্ররা একটা আপোষহীন আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার ছাত্রদের কোন দাবিই আমলে নেয়নি বরং তাদের প্রতি নানাভাবে বিষোদগার করা হয়েছে। এমনকি আন্দোলনকারী ছাত্রদের শেখ হাসিনা রাজাকারের নাতি-পুতি বলতেও কসুর করেন নি। কিন্তু সরকার প্রধানের এসব বেফাঁস মন্তব্য জ¦à¦¾à¦²à¦¾à¦¨à§‹ আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকার শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন দমানোর জন্য ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলী চালিয়ে প্রায় ২ হাজার মানুষকে হত্যা করে দেশকে রীতিমত বধ্যভূমিতে পরিণত করেছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার উত্তাল তরঙ্গ কোনভাবেই থামানো সম্ভব হয়নি বরং দুর্বার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী নেত্রী ক্ষমতা ছেড়ে পাশর্^বর্তী দেশে পলাতে বাধ্য হয়েছেন। 

শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার তার বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। পতিত সরকারের আমলে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। তাকে বিচারের আওতায় আনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৩ ডিসেম্বর তাকে ফেরত চেয়ে ভারত সরকারের বরাবর একটি নোট ভারবাল পাঠিয়েছেন। কিন্তু ভারত সরকারের পক্ষে এর কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ভারতীয় সুশীল সমাজ ও থিঙ্কট্যাংকগুলোর পক্ষে তাকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ না করার ব্যাপারে নানা অপযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিনি ন্যায়বিচার পাবেন কি না তা নিয়েও ভারতীয়দের মাথাব্যথার অন্ত নেই। এতে মায়ের চেয়ে মাসির দরদই বেশি বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনা যে, প্রায় ১৬ বছরে দেশে ব্যাপকভিত্তিক গণহত্যা চালিয়ে তা নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। 

যে ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী নেত্রীকে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে সে ট্রাইব্যুনাল তো শেখ হাসিনার আমলেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আর এই ট্রাইব্যুনালেই তিনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের আইন নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করা হলেও সে সময় তা আমলে নেওয়া হয়নি। কিন্তু বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের আইন সংশোধন করে সকল বিতর্কের অবসান ঘটানো হয়েছে। তাই বর্তমান ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী নেত্রী ন্যায়বিচার পাবার বিষয়ে কোন সন্দেহ-সংশয় থাকার কথা নয়। আমরা বন্দী বিনিময় চুক্তির অংশ হিসাবে অনুপ চেটিয়াকে ভারতে হাতে তুলে দিয়েছি। তাই আমরা ভারতের মত বৃহৎ গণতান্ত্রিক প্রতিবেশীর কাছে অনুরোধ করবো এই স্বৈরাচারীনিকে বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশের হাতে প্রত্যর্পণ করুন। অবশ্যই তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ